ইসরাইলি সেনাবাহিনী আবারও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়েছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের বরাত দিয়ে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মিডিয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ভোরে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ২০০-রও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এর আগে, একটি চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছিল যে, ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৭৮ জন গাজার দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা।
আলজাজিরার সরাসরি সম্প্রচারে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকা জুড়ে চালানো হামলায় অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর এটিই ইসরাইলের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান।
এদিকে, আলজাজিরা আরবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার উত্তরাঞ্চলের গাজা সিটিতে ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-দারাজ পাড়ার আল-তাবি’ইন স্কুল, যেখানে বাস্তুচ্যুতরা আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে ইসরাইলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
এছাড়া, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে মাওয়াসি এলাকায় তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের ওপর হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদক বারাক রভিদের মতে, হামাস যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ইসরাইল গাজায় আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশে ইসরাইল অস্বীকৃতি জানানোর পর উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতামূলক আলোচনা চলছিল।
এছাড়া, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজায় ব্যাপক আক্রমণ চালাচ্ছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে শিন বেইটের সহযোগিতায় হামাসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।