শিরোনাম

আগরতলায় সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে আ.লীগ?

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের দাবি অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় একটি সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে। সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, “সমাবেশ থেকে তারা প্রবাসী সরকার ঘোষণার পরিকল্পনা করছেন এবং শেখ হাসিনা সেখানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিতে পারেন।”

আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, তাদের এই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হবে না।” তার এ মন্তব্যের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যদিও কিছুদিন ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি। আন্দোলনের নেতারা এমন একটি সময় এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, যখন কয়েকটি দল ও সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলছে। অন্তর্বর্তী সরকারও জানিয়েছে যে, আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ আসলেই ভারতের মাটিতে সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। দলটি যদি এমন প্রস্তুতি নেয়ও, ভারত সরকার কি সমাবেশের অনুমতি দেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আন্দোলনের সমন্বয়ক মাসুদ বলেন, “আমাদের কানেকশনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তারা আগরতলায় সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা সীমান্তের কাছাকাছি একটি মিটিং করার চেষ্টা করেছিলেন, যা পরে ব্যর্থ হয়।

আওয়ামী লীগের সমাবেশের এই উদ্যোগের পেছনে উদ্দেশ্য হিসেবে মাসুদ বলেন, “তারা প্রবাসী সরকার ঘোষণা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।” তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থান থেকে বাঁচতে দেশত্যাগ করেছেন, এবং এখন ষড়যন্ত্র করে দেশে ফিরে আসতে চাইছেন।”

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জানিয়েছেন, তার মা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি এবং তিনি এখনও দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। সমন্বয়ক মাসুদ দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন দেশে সফর করে দলকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা এ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, “এগুলো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা।” তিনি আরও বলেন, দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে তারা বলছেন, জীবনের নিরাপত্তার জন্য তারা দেশের বাইরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।