শিরোনাম

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের আরও ৫০ কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৫০ কোটি টাকার নতুন সম্পদের তথ্য উদঘাটন: দুদকের অনুসন্ধান

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তার পরিবারের নামে নতুন করে ৫০ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে। এর আগে, তাদের নামে ৬০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য উন্মোচিত হয়েছিল।

সম্পদের বিবরণ

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে:

  • ১৮টি বাস: ময়মনসিংহ, জামালপুর ও টাঙ্গাইল রুটে চলাচলকারী বাস।
  • সীমান্ত স্কয়ারে দুটি দোকান: রাজধানীর ধানমন্ডিতে।
  • ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ: ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং বিভিন্ন ব্যাংকে ২০ কোটি টাকার জমা।
  • ব্যাংক লেনদেন: পালিয়ে থাকা অবস্থায়ও তার ব্যাংক হিসাবে আড়াই কোটি টাকা জমা হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের ফার্মগেট শাখায় চারটি ব্যাংক হিসাবে পাওয়া অর্থ ইতোমধ্যেই ফ্রিজ করা হয়েছে।

অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে মামলা

দুদক এর আগে ৯ অক্টোবর, কামাল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ৬০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ৩৬টি ব্যাংক হিসাবের অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে চারটি মামলা দায়ের করে।

মামলার অভিযোগসমূহ:

  1. অবৈধ সম্পদ অর্জন:
    • কামালের বিরুদ্ধে ১৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।
    • স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনার নামে ১৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ।
    • ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খানের নামে ১৯ কোটি টাকার সম্পদ।
    • মেয়ে শাফিয়া তাসনিমের নামে ৮ কোটি টাকার সম্পদ।
  2. মানি লন্ডারিং:
    • মোট ৪০০ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পাচারের প্রমাণ।
    • শাফি মোদাচ্ছেরের নামে ৮৪ কোটি টাকার লেনদেন।
    • স্ত্রী তাহমিনার ১০টি ব্যাংক হিসাবে ৪৩ কোটি টাকার লেনদেন।
  3. সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত:
    • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগ।
    • জনসংযোগ কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা।

পলাতক আসামিদের অবস্থা

আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য বর্তমানে পলাতক। তবে, তার ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খানকে সম্প্রতি একটি হত্যা মামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপ

দুদক জানিয়েছে, মামলাগুলোতে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। চূড়ান্ত তদন্তের পর সম্পূর্ণ চিত্র প্রকাশ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা দেশের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

No tags found for this post.