রোববার, ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি হতাশাজনক দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একদিনে তিনটি ফরম্যাটে হারের সাক্ষী হলো ভারত। অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে রোহিত শর্মার দল, অজি নারীদের বিপক্ষে ভারতীয় নারী দল, এবং দুবাইতে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের যুব দল পরাজিত হয়েছে।
সুপার সানডের শুরুটা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে, যেখানে গোলাপি বলের টেস্টে ভারতীয় দলের অবস্থা ছিল শোচনীয়। আগের দিনই পরাজয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছিল, আর শেষ দিনে সেটা বাস্তবে পরিণত হয়। প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ভারতীয় দল মাত্র ১৮০ রানে গুটিয়ে যায়। স্টার্ক ৪৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্স করেন।
অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৩৭ রান তুলে ১৫৭ রানের লিড নেয়। এতে বড় ভূমিকা রাখেন ট্রাভিস হেড, যিনি ১৪১ বলে ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের ব্যাটিং আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নিতীশ কুমার রেড্ডি ছাড়া কেউই বলার মতো স্কোর করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ভারত ১০ উইকেটে হেরে যায়।
ভারতীয় সমর্থকদের জন্য দ্বিতীয় দুঃসংবাদটি আসে তাসমান সাগর পাড় থেকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেয়েদের একদিনের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১২২ রানের বড় ব্যবধানে হারে ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৩৭১ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। জবাবে ভারতীয় নারী দল ২৪৯ রানে অলআউট হয়।
সুপার সানডের তৃতীয় ধাক্কাটি আসে দুবাই থেকে। যুব এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল বাংলাদেশের কাছে ৫৯ রানের বড় ব্যবধানে হারে।
বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ১৯৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর তোলে। জবাবে, ভারতীয় ব্যাটাররা ব্যর্থতার পরিচয় দেয় এবং মাত্র ১৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। বাংলাদেশের বোলারদের দাপুটে পারফরম্যান্সে ভারত কোনোভাবেই ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
এশিয়া কাপে এটি বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল জয়। অতীতে বারবার এশিয়া কাপে ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলাদেশের। এবার সেই বদলা নিয়েছে বাংলাদেশ।
একদিনে তিনটি বড় হারের পর ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকরা হতাশ। অ্যাডিলেডে টেস্ট হোক, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নারীদের ম্যাচ হোক, কিংবা যুব এশিয়া কাপ—সবক্ষেত্রেই ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স ছিল অপ্রত্যাশিত।
No tags found for this post.