বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
বুধবার (১৯ মার্চ) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের এক রায়ে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আইনসিদ্ধ ছিল না এবং দাখিলকৃত চার্জশিট গ্রহণযোগ্য নয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির। বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ওই বছরের ২৭ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দীর্ঘ শুনানির পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদালত আসামিদের খালাস দেন, যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা-বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং দলটির তৎকালীন সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী আহত হন।
রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি আবারও সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত রায় নির্ধারণ করবে এই মামলার ভবিষ্যৎ।