তরুণদের স্বাধীন উদ্যোক্তা হয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি চাকরিকে এক ধরনের দাসত্ব হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “মানবসত্তা inherently স্বাধীন, তাই আমাদের উচিত নতুন কিছু সৃষ্টি করা, চাকরির জন্য নির্ভরশীল না হওয়া।”
শনিবার সকালে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে, যা তার কাজ ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব নেওয়ার পর, দারিদ্র্য দূরীকরণকে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। তবে এটি সহজ কাজ নয়, সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো মোকাবিলা করতে হলে সব নাগরিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ প্রতিনিয়ত উন্নত জীবনের জন্য সংগ্রাম করছে। কিন্তু অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তাদের এগিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। এই অব্যবস্থাই আমাদের জনগণের মূল সমস্যা।”
চাকরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রয়েছে ভালো শিক্ষালাভ করে কর্মজীবনে প্রবেশের। কিন্তু চাকরি মানুষের সৃজনশীলতাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। বরং আমাদের উচিত উদ্যোক্তা হয়ে নতুন কিছু তৈরি করা, যা আমাদের এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।”
প্রধান উপদেষ্টা চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার চীন যান। সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া সম্মেলনে তিনি বক্তব্য রাখেন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বিষয়ক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করেন।
প্রধান উপদেষ্টা আজ চীন সফর শেষে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।