শিরোনাম

ট্রাম্পের ফোনেও ইউক্রেনে পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেন না পুতিন

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানাননি পুতিন।

বুধবার (১৯ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পুতিন ইউক্রেনে সাময়িকভাবে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করতে রাজি হলেও যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি সৌদি আরবে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা। তবে পুতিন সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইউক্রেনকে বিদেশি সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ না হলে ব্যাপকভিত্তিক যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।

ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা ইতোমধ্যেই রাশিয়ার এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ান বাহিনী দখলকৃত কুরস্ক অঞ্চলের কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপের পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে পৌঁছান। সেখানে তিনি বলেন, ইউক্রেন জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ রাখার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী, তবে বিস্তারিত জানতে চান।

পরে তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া এখনো হাসপাতাল ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ওপর হামলা চালাচ্ছে। এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি জানান, “দুঃখজনকভাবে, বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। আজ পুতিন কার্যত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।”

অন্যদিকে, ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, পুতিনের সঙ্গে তার আলোচনাটি “খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ” হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা জ্বালানি ও অবকাঠামোর ওপর তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছি এবং দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিয়ে কাজ করব।”

বিবিসি জানায়, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এর জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরের বিভিন্ন তেল ও গ্যাস স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।